শাইখ সালিহ আল-ফাওযান: কখন কাউকে খারিজি বলে ডাকা যাবে

সালাফি দাওয়াহ বাংলা
শাইখ সালিহ আল-ফাওযানকে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল (অডিও শুনুন):

প্রশ্ন: কখন কোনো ব্যক্তিকে খারিজিদের দলভুক্ত বলা যাবে? সে কি তাদের কাজগুলোর মধ্যে কেবল কোনো একটা করলেই তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে? না এটা আবশ্যক যে তার (তাদের সব আকিদাহ-বিশ্বাসে) বিশ্বাসী হতে হবে এবং তাদের সব কাজেই লিপ্ত হতে হবে?

শাইখ জবাবে বলেন:
যে ব্যক্তি খারিজিদের মতো কাজ করে এবং তাদের মতো কথা বলে, তাকেও খারিজিদের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য করা হবে। খারিজি তো তারাই, যারা মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং আনুগত্যের কাতার (Ranks of Obedience) ভেঙে চুরমার করে দেয়। তাই যে ব্যক্তি (বিদ্রোহ করার) এ বিশ্বাস পোষণ করে কিংবা মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেয়, সে খারিজিদের অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে, মুসলিমদের মধ্যে কোনো কবিরা গুনাহ হতে দেখলে যারা তাদের তাকফির করে, এটিও খারিজিদের মতবাদ। কেউ যদি কোনো মুসলিমকে শিরকের চেয়ে কম মাত্রার কোনো গুনাহর কারণে কাফির সাব্যস্ত করে, তবে সেও খারিজিদের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হবে। এটাই খারিজিদের মতবাদ; আমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। [সূত্র: alfawzan.af.org.sa]
শাইখ আরও বলেছেন:
খাওয়ারিজ ও মুতাযিলাহ—যারা ফাসিক (পাপাচারী) শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। [শারহু আকিদাতিল ইমামিল মুজাদ্দিদ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, দারুল মিনহাজ, ১৪২৬ হি., পৃ. ১২৮]

টীকা: ইতিহাস ও আকিদাহর কিতাবাদিতে সুপরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত বিষয় হচ্ছে, কোনো ব্যক্তির খারিজি হওয়ার জন্য কবিরাহ (বড়ো) গুনাহের কারণে মুসলিমদেরকে তাকফির করা আবশ্যকীয় কোনো শর্ত নয়। তাই, আল-কায়েদা, আইসিস এবং তাদের (কিংবা প্রাক্তন) আধ্যাত্মিক গুরুরা, যেমন: আবু কাতাদাহ (আল-ফিলিস্তিনি), আবু মুহাম্মাদ আল-মাকদিসি ও তাদের সমমনারা যে দাবি করে থাকে যে, তারা কবিরা গুনাহের কারণে মুসলিমদের তাকফির করে না কিংবা পুরো সমাজের ওপর ঢালাও তাকফিরের বিধান আরোপ করে না—তা শুধুই একটি ধোঁকাবাজি বা প্রতারণা যার মাধ্যমে তারা যেমন সাধারণ অজ্ঞ লোকদের ধোঁকায় ফেলে, তেমনি অসচেতন পশ্চিমা অ্যাকাডেমিকদেরও বিভ্রান্ত করে। কোনো মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে জায়েয বা বৈধ মনে করা (শাসকের জুলুম ও পাপাচারের কারণে, কুফরের অভিযোগ তো আরও পরের বিষয়) এবং কবিরা গুনাহের কারণে মুসলিমদের তাকফির করা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। প্রথম বিষয়টি (অর্থাৎ, শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা) প্রত্যেক খারিজিকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে এবং যা তাদের নবউদ্ভাবিত ধর্মের মূল কেন্দ্রবিন্দু। পক্ষান্তরে, কোনো মুসলিম বা পুরো সমাজের ওপর গুনাহের কারণে তাকফিরের করা খারিজিদের পরবর্তী যুগের আবিষ্কার, এবং তাদের সবাই এ মতবাদ গ্রহণও করেনি। এ কারণেই খারিজিদের নিজেদের মাঝেও পরস্পর মতবিরোধ ও খণ্ডন রয়েছে, এমনকি তাদের কেউ কেউ একে অপরকে খারিজি বলে উল্লেখ করে। এ বাস্তবতার আলোকে আমরা দেখতে পাই, চরমপন্থি (Hardcore) খারিজি আবু মুহাম্মাদ আল-মাকদিসি তার অনুসারীদের মধ্যে যারা কবিরা গুনাহের কারণে মুসলিমদেরকে বা পুরো সমাজকে তাকফির করে, তাদের বিভিন্ন লেখার মাধ্যমে খণ্ডন করে। তা সত্ত্বেও আল-মাকদিসি নিজেই একজন কট্টরপন্থী খারিজি হিসেবে বহাল রয়েছে; কারণ তার নবউদ্ভাবিত ধর্মের মূল কেন্দ্রবিন্দু এখনো অপরিবর্তিত আছে এবং সে তা থেকে ফিরে আসেনি।




সূত্র: kharijites.com
পরবর্তী পূর্ববর্তী
কোনো মন্তব্য নেই
মন্তব্য লিখুন
comment url