শাসকদের প্রকাশ্য সমালোচনা এবং সালাফদের মানহাজ প্রসঙ্গে শাইখ আব্দুল আযিয ইবনু বায

সালাফি দাওয়াহ বাংলা

ইমাম আব্দুল আযিয ইবনু বায (رحمه الله) জিজ্ঞাসিত হন: “মিম্বার থেকে শাসকদের সমালোচনা করা কি সালাফদের মানহাজ (পদ্ধতি/কর্মপন্থা)? আর শাসকদের উপদেশ (নাসিহাহ) প্রদান করার ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজ কী?”


তিনি (رحمه الله) জবাব দেন: [১]
মিম্বার থেকে শাসকদের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ্যে আনা এবং এমন বিষয় উল্লেখ করা সালাফদের মানহাজের অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়, বিশৃঙ্খলা উস্কে দেওয়া হয় এবং কল্যাণকর বিষয়ে শাসকদের কথা শোনা ও তাদের প্রতি আনুগত্যশীল হওয়ার ক্ষেত্রে তা বিঘ্ন ঘটায়।

এটা (লোকেদের) ক্ষতিকর ও অলাভজনক বিষয় নিয়ে (বিবাদ, বিতর্ক ইত্যাদিতে) জড়িয়ে পড়ার সমতুল্য। তবে শাসক ও উলামাদের মধ্যকার বিষয়ে নাসিহার ক্ষেত্রে সালাফদের অনুসৃত পদ্ধতি ছিল শাসককে চিঠি লেখা বা উলামাদের মাধ্যমে তাঁর কাছে সেই নাসিহাহ পৌঁছে দেওয়া, যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি সৎপথে পরিচালিত হন।

মন্দের বিরোধিতা অপরাধীর নাম উল্লেখ না করেও করা যেতে পারে। তাই ব্যভিচার, মাদক ও সুদের দমন/বিরোধিতা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করেও করা যায়। গুনাহের বিরোধিতা করার জন্য শুধু সেগুলো থেকে সতর্ক করাই যথেষ্ট, এটা উল্লেখ না করে যে অমুক অমুক ব্যক্তি এতে জড়িত, হোক তিনি শাসক বা শাসক বাদে অন্য কেউ।

আর যখন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সময়ে ফিতনাহ (পরীক্ষা, বিবাদ) সংঘটিত হলো, কিছু লোক উসামা বিন যাইদকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললো, ‘আপনি কি উসমানকে নাসিহাহ করবেন না?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘তোমরা কি মনে করো যেহেতু তোমরা তা আমার কাছ থেকে শুনোনি, সুতরাং আমি তাঁকে নাসিহাহ করিনি? নিশ্চয়ই আমি তাঁর সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলবো, আমি এমন কোনো বিষয় উন্মুক্ত করতে অপছন্দ করি যেটার প্রথম উন্মোচনকারী হবো আমি নিজে।’

যখন তারা (খাওয়ারিজ সাবাইয়্যাহ) উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সময়ে অনিষ্ট ছড়ালো এবং প্রকাশ্যে উসমানকে প্রত্যাখ্যান করলো, তখন ফিতনাহ, যুদ্ধ ও বিপর্যয় পূর্ণতা পেল—যার প্রভাব আজও রয়ে গেছে এবং এখনও মানুষকে তা প্রভাবিত করছে। পরবর্তীতে এটাই আলি ও মুয়াবিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মধ্যকার ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়ালো এবং উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে এসব কারণেই হত্যা করা হলো। তাছাড়া, এমন প্রকাশ্য বিদ্রোহ ও শাসকের ত্রুটি প্রচারের ফলে অসংখ্য সাহাবাহ ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ নিহত হলেন, এমনকি জনগণ কর্তৃত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ঘৃণা করতে শুরু করলো যতক্ষণ না তারা তাকে হত্যা করলো। আমরা আল্লাহর কাছে সাফল্য কামনা করছি।

তথ্যসূত্র:

[১] আল-মালুম মিন ওয়াজিব আল-আলাকাহ বাইনাল হাকিম ওয়াল মাহকুম: পৃ. ২২-২৩ | abuiyaad.com
পূর্ববর্তী পোস্ট
কোনো কমেন্ট নেই
কমেন্ট করুন
comment url