সাইয়িদ কুতুবের ‘ফি যিলালিল কুরআন’ সম্পর্কে শাইখ সালিহ আল-ফাওযান
শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন:
‘ফি যিলালিল কুরআন’ পাঠ করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ বা পুনর্বিবেচনার যোগ্য, কারণ ‘যিলাল’-এর মধ্যে অত্যন্ত সন্দেহজনক ও বিভ্রান্তিকর বিষয় রয়েছে। তরুণদের এটি পড়ানো এবং এর মধ্যে থাকা চিন্তা-ভাবনাগুলো গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়, কারণ এটি তরুণ প্রজন্মের মন-মানসিকতায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাফসির ইবনু কাসির এবং সালাফদের উলামাদের অসংখ্য তাফসিরগ্রন্থ (এতো উপকারী যে) সেসব এ ধরনের বই পড়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা বাকি রাখে না। আর প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো তাফসিরগ্রন্থও নয়; বরং এতে কুরআনের সূরাগুলোর সাধারণ বিষয়াবলী (General themes) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সূচনালগ্ন থেকে উলামাদের কাছে তাফসির বলতে যা বোঝায়—অর্থাৎ হাদিস ও আসার (বর্ণনা) দ্বারা আয়াতের অর্থ ব্যাখ্যা করা, আয়াতের ভাষাগত ও অলংকারশাস্ত্রীয় দিকগুলো উন্মোচন করা, তা থেকে শারিয়াহর হুকুম-আহকাম ব্যাখ্যা করা এবং এসব কিছুর আগে আল্লাহ তাআলা আয়াত ও সূরাগুলোতে ঠিক কী উদ্দেশ্য নিয়েছেন তা স্পষ্ট করা—এটি সে ধরনের তাফসির নয়।তথ্যসূত্র: যিলাল: ৩/১৭৮৬; ৫/২৭১৯, ২৯১৫, ২৯১৭; ৬/৩৪০৪, ৩৮১১, ৩৮২১, ৩৮৪৫, ৩৯০৬, ৩৯০৮, ৩৩৯১৫ এবং ৩৯৫৭ (দ্বাদশ সংস্করণ, ১৪০৬ হিজরি, দারুল ইলম)।
‘ফি যিলালিল কুরআন’-এর বিষয়টি হলো, এটি একটি সাধারণ ধারণাভিত্তিক আলোচনা বা বিশ্লেষণ। বর্তমান যুগে আমরা যাকে ‘বিষয়ভিত্তিক তাফসির’ (Objective explanation) বলি, একে তাও বলা যেতে পারে। তবে এর ওপর ভরসা করা যায় না; কারণ এর মধ্যে সুফিবাদের উপাদান রয়েছে এবং এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যা কুরআনের মর্যাদার সাথে মানানসই নয়—যেমন গান ও সুর-সংক্রান্ত পরিভাষা।
তাছাড়া সে (সাইয়িদ কুতুব) ‘তাওহিদ’ বলতে ইবাদাতের তাওহিদকে বোঝায় না; বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘রুবুবিয়্যাহ’ বা প্রভুত্বের তাওহিদকে বুঝিয়ে থাকে। আর যদি সে ইবাদাতের তাওহিদের কোনো কিছু উল্লেখও করে, তবে সার্বিক সার্বভৌমত্ব ও আইন প্রণয়নের অধিকারে (আল-হাকিমিয়্যাহ) তাওহিদের ওপরই বেশি জোর দেয়।তথ্যসূত্র: ‘মাআালিম ফিত-তারিক’: পৃষ্ঠা ২৬, ২৯, ৩৮, ৪০ (১৫তম সংস্করণ, ১৪১২ হিজরী, দারুশ-শুরুক) এবং ‘আল-আদালাহ আল-ইজতিমাঈয়্যাহ’ (পৃষ্ঠা ১৮২, ৯ম সংস্করণ, ১৪০৩ হিজরী, দারুশ-শুরুক)।
নিঃসন্দেহে ‘হাকিমিয়্যাহ’ (আইন প্রণয়ন ও পরিচালনার ক্ষমতা) ইবাদাতের তাওহিদেরই একটি অংশ, কিন্তু এটিই সেই পরিপূর্ণ ‘উলুহিয়্যাহ’ নয় যা আবশ্যক। তাই এই বইকে ‘তাফসির ইবনু কাসির’-এর সমকক্ষ বলা বা এর পাশে রাখা উচিত নয়—এটাই আমার অভিমত। বরং এর পরিবর্তে যদি সালাফদের কিতাব এবং আকিদাহ, কুরআনের তাফসির ও শারিয়াহর হুকুম-আহকামের ওপর গুরুত্ব দেওয়া কিতাবসমূহ বেছে নেওয়া হয়, তবে তা হবে তরুণদের জন্য অনেক অধিক উপযুক্ত।সূত্র: ক্যাসেট রেকর্ড: “মাজমু মাকালাহু ইবন বায হাওলা নাসিহাতিহিল আম্মাহ লিকা মাআ হাদিসাতিহ”, মক্কা, ৯/৮/১৪১২ হিজরি।
সোর্স: themadkhalis.com
