আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ বিশ্বাস করে শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম

সালাফি দাওয়াহ বাংলা

যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহ মালাইকাদের সর্বোচ্চ আসরে আমাদের সম্মানিত নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন, তাঁকে এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবিগণ ও কিয়ামাত পর্যন্ত সঠিকভাবে তাঁদের অনুসরণকারী সকলকে পূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তা দান করুন।

কিদাহ (বিশ্বাস) ও মানহাজ (কর্মপদ্ধতি) সংক্রান্ত প্রাথমিক গ্রন্থসমূহ থেকেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, আহলুল হাদিস ও সালাফিদের ঐকমত্য হলো—মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও অভ্যুত্থান করা সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ। অসংখ্য উলামাদের পাশাপাশি দুই ইমাম—ইমাম আবু হাতিম আর-রাযি (মৃ. ২৭৭ হিজরি) ও ইমাম আবু যুরআহ আর-রাযি (মৃ. ২৬৪ হিজরি) তাঁদের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আকিদাতুর রাযিয়াইন’-এ উলামাদের এই ইজমার (সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত) বিষয় তুলে ধরেছেন:

আমরা শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে নাজায়েয মনে করি...
কুরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং প্রবীণ (কিবার) সাহাবিদের সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে এই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ইমামদ্বয় এবং তাঁদের পূর্বসূরিগণ (যেমন: ইমাম বুখারি, ইমাম আহমাদ, সুফিয়ান, ফুদাইল প্রমুখ) তা লিপিবদ্ধ করে গেছেন। তখন থেকে আজ পর্যন্ত কোনো জাহিল (অজ্ঞ-মূর্খ) বা পথভ্রষ্ট বিদআতি ছাড়া আর কেউই আকিদাহর এই অবস্থানের বিরোধিতা করেনি।

বিদ্রোহ (খুরুজ) হলো শাসকের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা, প্রকাশ্যে তাঁর বিরোধিতা করা, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার অপচেষ্টা চালানো, বিক্ষোভ, র‍্যালি, গণমিছিল, হরতাল বা ধর্মঘট ইত্যাদির মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে জনগণকে উসকে দেওয়া, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা এবং লেখালেখি, বক্তব্য প্রদান বা তলোয়ারের মাধ্যমে তাঁর মুখোমুখি হওয়া।

এগুলোর সবই ‘খুরুজ’ বা বিদ্রোহ হিসেবে গণ্য। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুস্পষ্ট ও সুনিশ্চিত হাদিসে তা নিষিদ্ধ করেছেন। এমন হাদিস, মানুষের নফস বা প্রবৃত্তি, ব্যক্তিগত মতামত ও যুক্তি দিয়ে কিংবা মানুষের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তির মর্যাদা যতোই উচ্চ হোক না কেন—তাদের ভুল বিচার-বিবেচনা দিয়ে যেগুলোর বিরোধিতা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওয়াহির মাধ্যমে কথা বলেছেন, আর তাঁর পরবর্তী কেউ এর মাধ্যমে বলেননি। এ কারণেই, এ বিষয়ে যখন ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তখন থেকে নিয়ে আমাদের বর্তমান পর্যন্ত খাওয়ারিজ, শিয়া, মুতাযিলাহ এবং তাদের উপদলগুলো ছাড়া আর কেউই এর বিরোধিতা করেনি।

মুসলিম তাঁর সহিহে (১৮৪৭) ওয়াইল ইবনু হুজর থেকে বর্ণনা করেন: সালামাহ ইবনু ইয়াযিদ আল-জুফি রাসুলুল্লাহকে (ﷺ) জিজ্ঞেস করেন: “হে আল্লাহর নবি! আমাদের ওপর যদি এমন শাসক নিযুক্ত হয় যারা নিজেদের অধিকার চায় কিন্তু আমাদের অধিকার দেয় না, তখন আমরা কী করবো?” তিনি উত্তর দিলেন: “(যেকোনো পরিস্থিতিতেই) তাদের কথা শুনবে ও মানবে। তাদের বোঝা তাদের ওপর, আর তোমাদের বোঝা তোমাদের ওপর।”

বুখারি (৭০৫৪) ও মুসলিম (১৮৪৯) ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
যে ব্যক্তি তার শাসকের মাঝে অপছন্দনীয় কিছু দেখে, সে যেন ধৈর্যধারণ করে। কারণ যে ব্যক্তি জামাআহ (অর্থাৎ কোনো দেশের মুসলিম সমাজ) থেকে এক বিঘত পরিমাণও বিচ্ছিন্ন হয় এবং সেই অবস্থায় মারা যায়, তার মৃত্যু হবে ইসলাম-পূর্ব মূর্খতার যুগের (জাহিলিয়্যাহ) মৃত্যু।
আল-হাফিয ইবনু হাজার তাঁর হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, ইবন আবি জামরাহ আল-আন্দালুসি (মৃ. ৫৯৯ হিজরি) বলেছেন:
“‘বিচ্ছিন্ন হওয়া’ বলতে বোঝায় শাসকের প্রতি প্রদত্ত আনুগত্যের অঙ্গীকার (বায়আত বা Pledge of Allegiance) ভঙ্গ করার প্রচেষ্টা—তা যত সামান্যই হোক না কেন। এখানে ‘এক বিঘত’ দ্বারা উদাহরণ দেওয়ার কারণ হলো, এই সামান্য পরিমাণ বিচ্ছিন্নতাও অন্যায়ভাবে রক্তপাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।” [আল-ফাতহ ১৩/৭]
এ কারণেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (মৃ. ২৪১ হিজরি) তাঁর ‘উসুলুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—যা আল-লালিকায়ির ‘শারহু উসুলিল ইতিকাদ’ (১/১৬১) গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে:
জনগণের মধ্য থেকে কারও জন্যই শাসকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা জায়েয নয়। আর যে ব্যক্তি তা করবে, সে একজন বিদআতি, সে সুন্নাহর ওপর নেই এবং সরল পথের ওপরও নেই।
শাসক বা সরকার সৎ, পরহেজগার, পাপিষ্ঠ কিংবা অত্যাচারী—যা-ই হোক না কেন, তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব (আবশ্যক)। ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১৮৩৬) আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
স্বাচ্ছন্দ্যে ও কষ্টে, পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় পরিস্থিতিতে এবং তোমার প্রাপ্য অধিকার অন্যকে দিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও (যখন তুমি অধিক হকদার ছিলে) শাসকের কথা শোনা ও আনুগত্য করা তোমার ওপর আবশ্যক।
ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১০৫৯) আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“আমার পরে তোমরা এমন কঠিন বৈষম্য দেখতে পাবে (যেখানে অযোগ্যদের প্রাধান্য দেওয়া হবে), তাই তোমরা ধৈর্যধারণ করো, যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করো এবং তাঁর রাসূলের সাথে হাউজে কাউসারে (আল-হাউজ) মিলিত হও।” তখন সাহাবিরা বললেন, “আমরা ধৈর্যধারণ করবো।”
আল-বুখারি (২৩৭৭) বর্ণিত একটি ইবারাতে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আরও যোগ করেছেন: “কিন্তু আমরা (অর্থাৎ, কিছু মুসলিম) ধৈর্যধারণ করিনি।” এটাই প্রমাণ, যারা ধৈর্যধারণে অক্ষম হয়েছিলেন, তারা তাদের সিদ্ধান্তে ভুল ছিলেন। কেননা সঠিক পথ হলো যা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন।

গুনাহর অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাজে শাসকের আনুগত্য করা ওয়াজিব। শাসকের পাপাচার বা অত্যাচারের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা আদৌ বৈধ নয়। এটি ইজমা অনুযায়ী নিষিদ্ধ, যেমনটা প্রথম যুগের সালাফদের আকিদাহর কিতাবাদি ও বিশুদ্ধ সুন্নাহয় লিপিবদ্ধ হয়েছে।

আর সুন্নাহবিরোধী ও বিদআতিদের আবেগঘন চিৎকার-চেঁচামেচি (Emotional screams)—যেমন: ইখওয়ানুল মুসলিমিন, হাসান আল-বান্না, সাইয়িদ কুতুব ও মাওদূদির অনুসারী এবং তাদের হালের শাখা-প্রশাখা, যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও আন্দোলনকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে—আমাদের তা নিয়ে বিচলিত হওয়া উচিত নয়। যারা “সামাজিক ন্যায়বিচার” ও “অত্যাচার দূরীকরণ” এর স্লোগানে জনগণকে শাসকদের বিরুদ্ধে উসকে দেয়, তাদের এসব কর্মকাণ্ড শেষমেশ নিরপরাধ মানুষদের রক্তপাত, সমাজের অধঃপতন, আইন-শৃঙ্খলা ধ্বংস এবং এক বা একাধিক প্রজন্মের জন্য দ্বীন ও দ্বীনি শিক্ষা বিনষ্ট হওয়ার মতো আরও অনেক বিষয়ের দিকে নিয়ে যায়! আর এ রাজনৈতিক উস্কানিদাতা, নিরাপত্তা ও দ্বীনের বিনাশকারীদের বিরুদ্ধে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। তাদের সম্পর্কেই ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: “যে ব্যক্তি এরূপ করে, সে বিদআতি, সে সুন্নাহর ওপর নেই এবং সরল পথের ওপরও নেই।”

ইবনু আবি আসিম তাঁর ‘আস-সুন্নাহ’ (১০২৬) গ্রন্থে এবং ইবনু হিব্বান তাঁর ‘সহিহ’ (৪০৬২) গ্রন্থে উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“তোমরা শাসকের কথা শোনো ও তার আনুগত্য করো—কষ্টে ও স্বাচ্ছন্দ্যে, সন্তুষ্ট অবস্থায় ও অসন্তুষ্ট অবস্থায়, এমনকি যখন তোমাদের চেয়ে অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, এবং এমনকি যখন তারা তোমাদের ধন-সম্পদ গ্রাস করে নেয় ও তোমাদের পিঠে প্রহার করে।[আল-আলবানি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন; দেখুন: ‘যিলালুল জান্নাহ’ ও ‘আত-তা‘লিকাতুল হিসান’]
এটাই সেই নির্দেশনা যা আল্লাহর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবিদের দিয়েছিলেন—যে তারা শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে না বা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না, এমনকি যখন তাদের চেয়ে অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, তাদের সম্পদ অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হবে এবং তাদের পিঠে প্রহার করা হবে! তাহলে কার অধিকার আছে বলার যে, তারা রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই আদেশ মানতে বাধ্য নয়? বা এটা বলবে যে সামাজিক অবিচার ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অধিকার তাদের সাহাবিদের চেয়েও বেশি? সাহাবিদের শাসকদের অত্যাচার, জুলুম ও প্রকাশ্য পাপাচারের মুখে ধৈর্যধারণ করতে হয়েছিল ও সহ্য করতে হয়েছিল; কিন্তু ১,৪০০ বছর পর এসে এসব রাজনৈতিক নেতাকর্মী (Activists), বিক্ষোভকারী, বিদ্রোহী ও ইখওয়ানিরা নবির আদেশেরই আনুগত্য করতে পারে না?!

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “শাসকদের অত্যাচারের ওপর ধৈর্যধারণ করা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মূলনীতিগুলোর মধ্যে একটি মূলনীতি।” [মাজমুউল ফাতাওয়া ২৮/১৭৯] আর ইবনু তাইমিয়্যাহর এ কথা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আহাদিসের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সঙ্গতিপূর্ণ।

ইবনু আবি আসিম তাঁর ‘আস-সুন্নাহ’-য় (২/৫০৮) আদি ইবনু হাতিম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, আমরা বললাম: “হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনাকে এমন শাসকের আনুগত্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছি না যিনি মুত্তাকি (নেককার ও আল্লাহভীরু), সৎ ও সংস্কারক। বরং আমরা এমন শাসক সম্পর্কে জানতে চাই যে এই এই কাজ করে… —এভাবে তিনি তাদের মন্দ বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করলেন। তখন নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর দিলেন: “আল্লাহকে ভয় করো! শাসকের কথা শোনো এবং তাঁর আনুগত্য করো।” [আত-তাবারানি তাঁর ‘আল-কাবির’ (১৭/১০১)-এও বর্ণনা করেন, আল-আলবানি ‘যিলালুল জান্নাহ’-য় হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]

আল-ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (মৃ. ৭২৮হি) বলেছেন: “এমন কোনো সম্প্রদায়ই ছিল না যারা তাদের শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে, কিন্তু বিদ্রোহের পর তাদের অবস্থা বিদ্রোহের আগের চেয়ে ভালো হয়েছে।” [মিনহাজুস সুন্নাহ, ৩/২৩১] এটা কি আমাদের যুগেরও চলমান বাস্তবতা নয়? ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মুসলিম বিশ্বে সংঘটিত হওয়া গণজাগরণ ও বিপ্লবগুলোর দিকে তাকান। এসব বিপ্লবের পর জনগণের অবস্থা কেমন হয়েছে? মৃ., সন্ত্রাস, বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংস! অথচ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এবং তাদের তথাকথিত “উদারপন্থি (Liberal)” মিত্ররা আরও বেশি বিক্ষোভ, সমাবেশ ও বিপ্লবের দিকে ডাকছে! মুসলিমদের জাগরণ দরকার এবং তাদের উচিত নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর দিকে ফিরে আসা। প্রথম যুগের সালাফদের মহান ইমাম ইউনুস বিন উবাইদ বলেছেন: “আমাদের যুগে সুন্নাহর প্রতি আহ্বানকারী ব্যক্তিকে দেখে অবাক হতে হয়। আর তার চেয়েও বেশি অবাক হওয়ার বিষয় হলো ঐ ব্যক্তি যে সুন্নাহর আহ্বানে সাড়া দেয়।” [আবু নুয়াইম ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া’-তে, ৩/২১; ইবনু বাত্তাহ ‘আল-ইবানাহ’-তে, নং ২০; এবং আল-লালিকায়ি, নং ২১-২৩]

আল-হাসান বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শাসক ও পাপিষ্ঠ শাসক, নেতা ও পাপিষ্ঠ নেতাদের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের কারও কারও পথভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতি আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানটুকুও পূর্ণ করে দেবে! তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: “হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাদেরকে তরবারি দিয়ে আঘাত করবো না?” তিনি উত্তরে বললেন: “না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা সালাত আদায়কারী হবে, ততক্ষণ না।” [ইমাম নুআইম ইবনু হাম্মাদ (মৃ. ২৩৯ হিজরি) ‘কিতাবুল ফিতান’-এ, ১/১৮৫, নং ৪৯১]

যারা এসব আয়াত, হাদিস, মানহাজ (কর্মপদ্ধতি) ও আকিদাহর বিপরীতে গিয়ে দাঁড়ায় এবং এগুলোর বিরোধিতা করে, তারা যেন জেনে রাখে যে তারা আহলুল বিদআহর অন্তর্ভুক্ত, যারা সুন্নাহ, হাদিস ও সালাফদের বিরোধী।

পথভ্রষ্ট দাঈ ইয়াসির কাদি (যুক্তরাষ্ট্র) কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমার বিরোধিতায় এবং হাদিস ও সুন্নাহর কিবারুল উলামাদের ফাতওয়ার বিপরীতে গিয়ে বলেছে: “আমি এটা সুস্পষ্টভাবে (Loud and clear) বলছি: আল্লাহই আমার সাক্ষী, মিশরে এসব বিক্ষোভের খবর শুনে এবং তিরিশ বছর ধরে চলা পুতুল রেজিমের বিরুদ্ধে ইতিবাচক পরিবর্তন কামনায় রাস্তায় নেমে আসা মিশরীয় জনতার ঢল, ট্যাংকের মুখে তাদের শরীর দিয়ে মোকাবেলা করা, সৈন্যদের সামনে আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হওয়া, ওয়াটার গান দ্বারা সিক্ত হওয়া সত্ত্বেও—এমন দৃশ্য দেখে আমার হৃদয় আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছে। কোনো মুমিনের হৃদয় কীভাবে উচ্ছ্বসিত না হয়ে পারে, যখন সে দেখে সাধারণ মুসলমানরা তাদের নিপীড়ক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কতোটা সাহসিকতার সাথে রুখে দাঁড়াচ্ছে যাদের অধীনে তারা বসবাস করছিল?” [১]

পড়ুন: ইয়াসির কাদির খণ্ডন: শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ও সালাফি উলামাদের বিরুদ্ধে তার দীর্ঘ অপবাদমূলক বক্তব্য ও অন্যান্য বিদআত

পূর্ববর্তী পোস্ট
কোনো কমেন্ট নেই
কমেন্ট করুন
comment url