হাদ্দাদি মানহাজের ৪টি উসুল: শাইখ রাবি আল-মাদখালি
মাহমুদ আল-হাদ্দাদের
সহযোগী আব্দুল লতিফ বাশমিল
এ বলে অপপ্রচার চালিয়েছিল যে, মদিনার মাশায়েখ—যেমন শাইখ রাবি বিন হাদি (رحمه الله)—সম্পূর্ণ গোপনীয়তার আড়ালে একটি বিচ্যুত রাজনৈতিক পদ্ধতির দিকে আহ্বান
জানাচ্ছেন, যা কি না শাইখ আল-আলবানি (رحمه الله) ভুলের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সে আরও অভিযোগ করে, এ শাইখরা হলেন উলামাদের মাঝে
ঘাপটি মেরে বসে থাকা এমন কিছু অনুপ্রবেশকারী, যারা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে
কাজ করছে। তার আরও দাবি ছিল, সৌদি আরবের নির্দিষ্ট কিছু দাঈ বা প্রচারককে
‘তাবদি’ (বিদআতি ঘোষণা বা সাব্যস্ত করা) না করার কারণে এই শাইখরা মূলত
ইখওয়ানিদের পথই অনুসরণ করছেন। এসব হাদ্দাদিদের মধ্যে ‘তাবদি’ ও ‘তাজরিহ’
(বর্জন)-এর ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি ছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল আহলুস সুন্নাহর
সারিবদ্ধ কাতারের মাঝে বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। নিজেদের দাবির পক্ষে
মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা সৌদির প্রখ্যাত উলামাদের নামের সাথে নিজেদের
সম্পৃক্ত করার বৃথা চেষ্টা চালাতো—যেহেতু ঐ উলামারা বিভিন্ন মাসআলায় শাইখ
আল-আলবানির মতের বিরোধিতা করতেন। হাদ্দাদিরা এ বিষয়টিকে হাতিয়ার বানিয়ে শাইখ
রাবি ও অন্যান্য উলামাদের ওপর আক্রমণ চালায়। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে এই বাশমিলই
হয়ে ওঠে এই ভ্রান্ত মতাদর্শের প্রধান প্রচারক, মুখপাত্র ও দাঈ। এরপর ২০০০-এর
দশকে হাদ্দাদিদের দ্বিতীয় ঢেউয়ের
(Second Wave Ḥaddādīyyah)
উত্থান ঘটে; এ সময়ে ফালিহ আল-হারবি এবং পরবর্তীতে ফাওযি আল-বাহরাইনির মতো
ব্যক্তিরা মাঠে নামে এবং তাদের নিজস্ব সংযোজন ও বিকৃতিসহ এই ধ্বংসাত্মক
মানহাজকে অব্যাহত রাখে।
হাদ্দাদি আব্দুল লতিফ বাশমিলের খণ্ডনে শাইখ রাবি বিন হাদি (رحمه الله) বলেছেন:
[১]
০১.
০২.
কেন তুমি আল-হাদ্দাদের সেই মানহাজের (কর্মপদ্ধতির) কথা চেপে যাচ্ছো, যা তুমি খুব ভালো করেই জানো। যে মানহাজের বৈশিষ্ট্য হলো:টীকা:হাদ্দাদিদের মধ্যে এই আব্দুল লতিফই সর্বপ্রথম মদিনাবাসীকে বয়কট বা বর্জন করেছিল। সে এই ভ্রষ্ট মূলনীতির ওপর দাঁড়িয়েই তাদের বর্জন করে এবং আহলুল মদিনার মাঝে বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টি করে একদলকে আরেক দলের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল। এসব বিষয় কি তোমার মিথ্যাচার, প্রতারণা ও জালিয়াতির তীব্রতা প্রমাণ করে না? তুমি যদি এই বিষয়গুলো তুলে ধরতে এবং সেগুলোর প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করতে, তবে মানুষ তৎক্ষণাৎ (তা বুঝতে পেরে) চিৎকার করে উঠতো যে এটাই তোমার মানহাজ এবং এই বিবাদ (ফিতনাহ) সৃষ্টির পেছনে তুমিই সবচেয়ে কঠোর ভূমিকা পালন করেছো।
- (ক) সমসাময়িক সালাফি মানহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত উলামাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা, কাউকেই না ছেঁড়ে তাঁদের প্রতি ঘৃণা ও শত্রুতা পোষণ করা—এমনকি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়িম, ইবনু আবিল ইযয এবং তাঁর গ্রন্থ ‘শারহ আত-তাহাওয়িয়্যাহ’-কেও হেয় প্রতিপন্ন করা।
- (খ) এ মানহাজকে ‘তাবদি’ (বিদআতি ঘোষণা)-এর ক্ষেত্রে চরমপন্থা (গুলু) এবং এমক এক নীতির ওপর দাঁড় করানো যা হলো: হাদ্দাদিরা যাদেরকে তাবদি করে, যে ব্যক্তি তাদের সেই তাবদি গ্রহণ করে না, সেও তাদের দৃষ্টিতে বিদআতি। আর এরই ভিত্তিতে—আল-হাদ্দাদের উপস্থিতিতে—আব্দুল লতিফ নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির তাবদি বা বিদআতি সাব্যস্তকরণ নিয়ে আমার সাথে বিতর্ক করেছিল, যাঁদের তাবদি করা থেকে উলামারা বিরত থাকতেন।
- (গ) তার তৃতীয় স্তম্ভ হলো: আহলুল বিদআহর জন্য বা এমন কোনো ব্যক্তি যে বিদআতে লিপ্ত হয়েছে কিন্তু উলামারা তাকে তাবদি করা থেকে বিরত থেকেছেন—এমন কারও জন্য রহমতের দোয়া করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম) ঘোষণা করা।
- (ঘ) সালাফদের অনুসৃত পথ বাদ দিয়ে আল-হাদ্দাদের নিজস্ব মানহাজ অনুযায়ী বিদআতিদের বর্জন করা। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সালাফি মানহাজ ও এর অনুসারীদের বিভ্রান্ত (Confuse) করা।
০১.
আব্দুল লতিফ চরম দ্বিমুখীতার (Duplicity) আশ্রয় নিয়েছিল। সে এমন ভাব ধরতো যেন মাহমুদ আল-হাদ্দাদের সাথে তার কোনো
সম্পর্কই নেই—অথচ বাস্তবে সে ছিল তার সহযোগী এবং এই মানহাজের প্রধান প্রচারক।
আর এটাই হাদ্দাদিদের পদ্ধতি; তারা সর্বদা দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করে এবং না
জানার ভান করে থাকে।
এখানে শাইখ রাবি হাদ্দাদি মানহাজের চারটি উসুলের (ভিত্তি বা মূলনীতি) কথা তুলে ধরেছেন। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা স্থান (যেমন: এক্ষেত্রে মদিনার প্রসঙ্গ) নিয়ে অতিরিক্ত পড়ে থাকার চেয়ে এই মানহাজের অন্তর্নিহিত কাঠামোর (Skeletal Framework) প্রতি মনোযোগ দেওয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেগুলোর উপস্থিতি মূলত হাদ্দাদি মানহাজের আত্মপ্রকাশের একটি ঐতিহাসিক পরিস্থিতি বা প্রেক্ষাপট মাত্র; তা কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়। তা বরং এমন এক ক্ষতিকর, অবক্ষয়ী ও ধ্বংসাত্মক মানহাজের প্রতিনিধিত্ব করে, যা একদিকে রূঢ়তা ও চরমপন্থার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, ঠিক যেমন নমনীয়তা ও শিথিলতাও এর নিজস্ব উপায়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাদের চারটি উসুলের প্রতি আলোকপাত করা যাক:
এখানে শাইখ রাবি হাদ্দাদি মানহাজের চারটি উসুলের (ভিত্তি বা মূলনীতি) কথা তুলে ধরেছেন। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা স্থান (যেমন: এক্ষেত্রে মদিনার প্রসঙ্গ) নিয়ে অতিরিক্ত পড়ে থাকার চেয়ে এই মানহাজের অন্তর্নিহিত কাঠামোর (Skeletal Framework) প্রতি মনোযোগ দেওয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেগুলোর উপস্থিতি মূলত হাদ্দাদি মানহাজের আত্মপ্রকাশের একটি ঐতিহাসিক পরিস্থিতি বা প্রেক্ষাপট মাত্র; তা কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়। তা বরং এমন এক ক্ষতিকর, অবক্ষয়ী ও ধ্বংসাত্মক মানহাজের প্রতিনিধিত্ব করে, যা একদিকে রূঢ়তা ও চরমপন্থার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, ঠিক যেমন নমনীয়তা ও শিথিলতাও এর নিজস্ব উপায়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাদের চারটি উসুলের প্রতি আলোকপাত করা যাক:
০২.
প্রথমত, সমসাময়িক উলামাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা এবং তাঁদের
প্রতি ঘৃণা ও শত্রুতা প্রদর্শন করা। নীতিটিকে এর গোড়া থেকে ঠিকভাবে বোঝা
জরুরি। মাহমুদ আল-হাদ্দাদ ইবনু হাজার আসকালানি ও ইমাম আন-নাবাওয়ির
(রাহিমাহুল্লাহ) মতো পূর্বসূরি উলামাদেরকে তাবদি করেছিল এবং তাঁদের কিতাবপত্র
জ্বালিয়ে দেওয়া বা ধ্বংস করে ফেলতে উৎসাহ জুগিয়েছিল। এ আক্রমণ কেবল এ কারণে
ছিল না যে তাঁদের মাঝে আশআরিদের প্রতি কিছু ঝোঁক ছিল কিংবা নির্দিষ্ট কিছু
ক্ষেত্রে তাঁরা তাদের সাথে একমত হতে হয়েছিল; বরং এটা এমন এক সাধারণ পদ্ধতি
যার লক্ষ্য ছিল পূর্ববর্তী বা সমসাময়িক যেকোনো আলিমকে
তাঁদের সামান্য কিছু ভুলের কারণে নিচে নামিয়ে আনা যে ভুলগুলো তাঁদের
কল্যাণের সুবিস্তৃত সাগরে তলিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত। ঠিক এ কারণেই হাদ্দাদিরা
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়িম ও ইবনু আবিল ইযকে হেয় প্রতিপন্ন
করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল। আর এরপর তারা সমসাময়িক উলামাদের প্রতি তাদের দৃষ্টি
নিবদ্ধ করে এবং শাইখ আল-আলবানিকে তাদের মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।
এখানে মূলনীতি হলো: ক্ষমাযোগ্য ভুল-ত্রুটির কারণে উলামাদের ওপর আক্রমণ করা ও তাঁদের হেয় প্রতিপন্ন করা, যেসব ত্রুটি বা ভুল থেকে কোনো মানুষই পুরোপুরি মুক্ত নয়, এবং কেবল ঐ ভুলগুলোর অজুহাতে তাঁদের সমস্ত কল্যাণ ও অবদানকে অস্বীকার করে ফেলা। মূলত এমন দৃষ্টিভঙ্গিই হাদ্দাদি মানহাজের ভিত্তি (যাকে তারা দ্রুত ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করে: তাবদি করা, তারাহহুম বা রাহমাহর দোয়া না করা এবং হাজর বা বয়কট করা)। এটা ঠিক “আগে গুলি করো, পরে কোনো প্রশ্ন করো না” নীতির মতো কাজ করে। তা এমন এক বিকৃত পদ্ধতি, যেখানে সামান্য একটি আঁচড় বা কাটার লক্ষণ দেখা দিলেই পুরো অঙ্গ কেটে ফেলে দেওয়া হয়, শরীরের সুস্থতা ও অখণ্ডতা রক্ষায় যেন আর কোনো ত্রুটি না থাকে! এটাই হাদ্দাদি মানসিকতা। শাইখ রাবি অন্যত্র যেমনটি বলেছেন, এটি কসাইসুলভ ও বর্বর…
০৩.
০৪.
এখানে মূলনীতি হলো: ক্ষমাযোগ্য ভুল-ত্রুটির কারণে উলামাদের ওপর আক্রমণ করা ও তাঁদের হেয় প্রতিপন্ন করা, যেসব ত্রুটি বা ভুল থেকে কোনো মানুষই পুরোপুরি মুক্ত নয়, এবং কেবল ঐ ভুলগুলোর অজুহাতে তাঁদের সমস্ত কল্যাণ ও অবদানকে অস্বীকার করে ফেলা। মূলত এমন দৃষ্টিভঙ্গিই হাদ্দাদি মানহাজের ভিত্তি (যাকে তারা দ্রুত ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করে: তাবদি করা, তারাহহুম বা রাহমাহর দোয়া না করা এবং হাজর বা বয়কট করা)। এটা ঠিক “আগে গুলি করো, পরে কোনো প্রশ্ন করো না” নীতির মতো কাজ করে। তা এমন এক বিকৃত পদ্ধতি, যেখানে সামান্য একটি আঁচড় বা কাটার লক্ষণ দেখা দিলেই পুরো অঙ্গ কেটে ফেলে দেওয়া হয়, শরীরের সুস্থতা ও অখণ্ডতা রক্ষায় যেন আর কোনো ত্রুটি না থাকে! এটাই হাদ্দাদি মানসিকতা। শাইখ রাবি অন্যত্র যেমনটি বলেছেন, এটি কসাইসুলভ ও বর্বর…
০৩.
দ্বিতীয়ত, তাবদির ক্ষেত্রে চরমপন্থা অবলম্বন করা। অর্থাৎ, অন্যদের
ওপর অন্যায়ভাবে তাবদির বিধান প্রয়োগ করা এবং এরপর বাকিদেরও অবশ্যই সেই
তাবদি মেনে নিতে হবে এমনটা দাবি করা। যদি কেউ তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়,
তবে তাদেরকেও তাবদি করা হয় এবং তাদের সাথেও (সতর্ক করা ও বর্জন করার
মাধ্যমে) বিদআতিদের মতো আচরণ করা। এটি মূলত প্রথম নীতিরই ধারাবাহিকতা,
যেখানে ক্ষমাযোগ্য ত্রুটি ও সাধারণ ভুলগুলোকে, এমনকি তা কখনো মৌলিক বিষয়ের
সাথে সংশ্লিষ্ট হলেও, বিদ্বেষের বশে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মানুষের
ওপর তাবদির ফাতওয়া দেওয়া।
এ আলোচনা কেবল ঐ সকল উলামাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যারা ইতোমধ্যে ইন্তেকাল করেছেন এবং যাদের ভুলগুলো ছিল ক্ষমাযোগ্য। হতে পারে সত্য তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি, কিংবা তাঁদের নিজস্ব কোনো ভুল ব্যাখ্যা ছিল বা তাঁরা বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে ছিলেন। পক্ষান্তরে, যারা শরিয়াহর মৌলিক বিষয়াবলিতে সীমালঙ্ঘন করার পরও এর ওপর অবিচল থাকে, নিজেদের ভুল থেকে ফিরে না আসে, তাওবাহ না করে এবং উপদেশ ও সংশোধনের পরেও একগুঁয়ে বিরোধিতা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা প্রদর্শন করতে থাকে—তারা মূলত নিজেদের কর্মের মাধ্যমেই নিজেদেরকে আহলুস সুন্নাহর গণ্ডি থেকে বাইরে নিক্ষেপ করে।
০৪.
তৃতীয়ত, কোনো আহলুল বিদআহর (মুবতাদি বা বিদআতের অনুসারী) জন্য
কিংবা এমন কোনো ব্যক্তির জন্য রহমতের দোয়া করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা
করা যে বিদআতে লিপ্ত হয়েছে। এটা হাদ্দাদি মানহাজের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
অথচ আহলুস সুন্নাহর মূলনীতি হলো, তাঁরা কস্মিনকালেও বিদআতিদের জন্য
রহমতের দোয়া করা নিষিদ্ধ করেন না; আহলুস সুন্নাহর উলামাদের কথা তো বলাই
বাহুল্য, যাঁদের জীবনে সামান্য কিছু ভুলত্রুটি ঘটেছে, কিংবা যাঁরা হাদিস,
তাফসির ও ফিকহের প্রখ্যাত আলিম হওয়া সত্ত্বেও কোনো কারণে বিদআতের প্রভাবে
প্রভাবিত হয়েছেন। আর এটি ইসলামি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও মুসলিমদের পারস্পরিক
অধিকারেরই একটি দাবি। অবশ্য বিশেষ কোনো কল্যাণ বা শরয়ী উপকারের স্বার্থে
নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে রহমতের দোয়া করা থেকে বিরত (Withhold) থাকা যেতে পারে; তবে তা কেবল ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র, কোনো নিয়ম বা
মূলনীতি নয়—যেমনটি হাদ্দাদীদের ক্ষেত্রে হরহামেশা দেখা যায়।
০৫.
০৫.
চতুর্থত, আল-হাদ্দাদের পদ্ধতিতে কোনো বিদআতিকে বর্জন করা
(হাজর)। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, বর্জনের এই বিধান আদতে প্রকৃত
(Actual) বিদআতির
ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—নির্দোষ লোকেদের ক্ষেত্রে নয়, যাদের ওপর মিথ্যা ও
জুলুমের বশে তাবদির বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে। তাদের বর্জনের এ পুরো
প্রক্রিয়া পূর্বের উসুলগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত। যেগুলো হলো: ক্ষমাযোগ্য
ভুলত্রুটিকে বড়ো করে দেখা, তাবদির ক্ষেত্রে চরমপন্থা অবলম্বন করা এবং
(বিদ্বেষপ্রসূত মানসিকতা থেকে) রহমতের দোয়া নিষিদ্ধ করা। এভাবে তারা এ
ধরনের ধ্বংসাত্মক বর্জনের দিকে আহ্বান জানায়, যার মূল লক্ষ্য হলো আহলুস
সুন্নাহর মাঝে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।
০৬.
মূল আরবি:
০৬.
সমসাময়িক উলামাদের মধ্যে শুরুতে শাইখ আল-আলবানি ও শাইখ রাবির
বিরুদ্ধে এ মানহাজ পরিচালিত হয়েছিল। এর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল মানহাজের
ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতার (উদুহ) দাওয়াহকে বিভক্ত করা এবং আহলুল
ইলমদের কাউকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া। মজার ব্যাপার
হলো, শাইখ রাবির পূর্বোক্ত বক্তব্যের শেষ অনুচ্ছেদটিতে
লক্ষণীয়—হাদ্দাদিরা মুখে একরকম ভান করে যে এ ভ্রান্ত মানহাজ বা এর
কোনো কোনো দিকের সাথে তারা জড়িত নয়—অথচ তাদের বাস্তব কর্মকাণ্ড ও আচরণে তা সুস্পষ্ট ও দৃশ্যমান:
কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য বা পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই বিদ্বেষবশত কাউকে
তাবদি করা (বিদআতি ঘোষণা), তাহযির (সতর্ক) করা ও হাজর (বর্জন) করা,
কিংবা এমনসব সাধারণ ত্রুটি ও ভুলকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া, যা এর
উপযুক্ত নয়। যার ফলশ্রুতিতে সমাজে কেবল বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে
পড়ে, অন্ধ শত্রুতা ও অন্ধ আনুগত্যের জোয়ার বইতে শুরু করে, এবং
পরিণতিতে আহলুস সুন্নাহর ঐক্য ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।
০৭.
০৭.
আমরা আবারও এ সিরিজে বিবৃত হাদ্দাদিদের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে
পারি, যা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল বা স্থানীয় পরিস্থিতির গণ্ডি ছাড়িয়ে
এর মূল কাঠামোকে সুস্পষ্টভাবে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে
সহায়ক হবে:
- বিষয়ের স্বচ্ছতা বা স্পষ্টতাকে (উদুহ) ঘৃণা করে, কারণ তারা সবসময় অস্পষ্টতা, ধোঁয়াশা ও এড়িয়ে চলার নীতিতে কাজ করে।
- দলিল ও প্রমাণভিত্তিক (Evidence-based) আলোচনার প্রতি বিমুখ।
- মূল বিষয়গুলো থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতে তারা নানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কৌশল ও চাতুর্যের আশ্রয় নেয়।
- আহলুস সুন্নাহর অসাবধানতাবশত হওয়া ভুলত্রুটিকে অতিরঞ্জিত করে এবং সেগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
- সম্পূর্ণ অন্যায়, অবিচার ও অযৌক্তিক উপায়ে তাবদির বিধান প্রয়োগ করে।
- যারা তাদের এই অন্যায় বিধান মেনে নেয় না, তাদেরকেও তারা বর্জন করে।
- প্রকৃত বিদআতিদের প্রতি অত্যন্ত নমনীয়, কিন্তু আহলুস সুন্নাহর অনুসারীদের প্রতি কঠোর ও নির্মম, নির্দয়।
- ভ্রান্ত রাজনৈতিক দল-উপদলের (আহযাব) সাথে সম্পর্ক রাখে এবং বিদআতিদের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাদের সমর্থন (Defence) করে এবং তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়।
- মিথ্যাচার ও বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে উলামাদের বিরুদ্ধে কুচক্র ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
- ব্যক্তিপূজায় অতিরঞ্জন (Ghuluww) দলবাজি (তাহাযযুব) ও উপদলীয় বিভাজনের (তাকাত্তুল) দিকে আহ্বান করে।
- নিজেদের মাঝে যেসব দোষ ও অপরাধ রয়েছে, সেগুলো মাধ্যমে উল্টো অন্যদের অভিযুক্ত করে (তাহাযযুব, হাদ্দাদিয়্যাহ)।
- অ্যাকাডেমিক অসততার আশ্রয় নেওয়া; কারো বক্তব্যের প্রাসঙ্গিক অংশ কেটে ফেলা (Clipping) এবং বক্তব্য গোপন করা।
- কোনোধরনের দলিল-প্রমাণের বালাই ছাড়াই তাদের বিরোধীদের (উলামা ও দাঈ) অনুপ্রবেশকারী ও এজেন্ট বলে অপবাদ দেয়।
মূল আরবি:
[১] মাজমু মুআল্লাফাত ওয়া রাসাইল (৯/৫০৭-৫০৮)
[২]
abuiyaad.com





