হাদ্দাদিয়্যাহ একটি বর্বর (বুনো, পাশবিক) মানহাজ: শাইখ রাবি আল-মাদখালি

সালাফি দাওয়াহ বাংলা
হাদ্দাদি মানহাজ হলো হিংস্র, পাশবিক ও বর্বর মানহাজ। এটি জঙ্গলের ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতিতে পরিচালিত হয়। আর এর একমাত্র লক্ষ্য হলো কোনোধরনের দয়া-মায়া ছাড়াই শিকারকে চিরতরে নিধন করা। অথচ তা সর্বার্থে সালাফি মানহাজের সম্পূর্ণ বিপরীত, যে মানহাজের মূল লক্ষ্য হলো সংশোধন, নিরাময় ও পুনর্মিলন। শাইখ রাবি অত্যন্ত কঠোর, আবেগঘন ও ক্রুদ্ধ কণ্ঠে এই বন্য মানহাজের সমালোচনা করেছেন।
শাইখ রাবি বিন হাদি (رحمه الله) আহলুস সুন্নাহর অনুসারী কেউ ভুল করলে তার সাথে কেমন আচরণ করতে হবে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলেন:
আমি (তাকে) উপদেশ দিই এবং বারবার (তার সংশোধনে) দৃঢ় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাই। আমি জানি সে নিঃসন্দেহে ভুল করেছে, কিন্তু আমি (তার) চিকিৎসা করি। আমি বলি: যে ভুল করে, তার চিকিৎসা প্রয়োজন। অসুস্থ ব্যক্তি যখন হোঁচট খায়, তখন আমরা (তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য) হাসপাতালে নিয়ে যাই। আমরা তার রক্তপাত ঘটিয়ে (মেরে ফেলি না) কিংবা তাকে হত্যা করি না এবং পুরোপুরি ধ্বংস বা নিঃশেষ করে দিই না—বারাকাল্লাহু ফিক।

পক্ষান্তরে, ঐ হাদ্দাদিরা যখন কারও সমালোচনা বা নিন্দা করে, তখন তারা তাকে একেবারে ধ্বংস করে দেয়। কেউ যদি একবার সামান্য পড়ে যায়, ব্যস! তাদের দৃষ্টিতে সে আর কোনোদিন মাথা তুলে দাঁড়ানোর যোগ্য নয়, বরং তার সোজা ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া উচিত! অথবা তারা যদি কেবল কল্পনাও করে যে সে ভুল করেছে কিংবা তার বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা রটিয়ে থাকে, তবুও তাকে অবশ্যই মরে যেতে হবে।

সুতরাং, এটি কোনো ইসলামি, সালাফি মানহজ নয়, কিংবা সাধারণ মানবিক (Humane) মানহাজও নয়। তা শুধুই বর্বরতা (নিষ্ঠুর, পাশবিক)। এটি এমন এক বর্বর মানহাজ যা অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন করে মানুষকে এর শিকারে পরিণত করে।

এমন মানহাজ, যা কেবল নিকৃষ্ট ও অপবিত্র জন্তু-জানোয়াররাই অনুসরণ করতে পারে। অতএব, প্রিয় ভাইয়েরা, এ মানহাজ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যাত। এটি বিভেদ ও বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টির জন্যই উদ্ভাবিত একটি মানহাজ—বারাকাল্লাহু ফিক।

যে মানহাজই অনৈক্য ও বিভেদ সৃষ্টি করে; তা আপনার জন্য (এ ক্ষেত্রে) এমন এক সুস্পষ্ট নিদর্শন, যা দিনের আলোর মতো (পরিষ্কার)।

টীকা: আমরা আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, যিনি এই উম্মাহকে শাইখ রাবি বিন হাদি (رحمه الله) এবং তাঁর ভাইদের মধ্যকার আহলুস সুন্নাহর অন্যান্য উলামাদের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছেন। যাঁদের তাসিলাত (মৌলিক নীতিমালা) এবং সালাফি মানহাজের ওপর ভিত্তি করে প্রদত্ত দিকনির্দেশনাগুলোর (Rules-of-Thumb) মাধ্যমেই আমরা বিষয়গুলোকে স্পষ্টভাবে দেখতে সক্ষম হই। এ কারণেই এধরনের শিক্ষা, মৌলিক ভিত্তি ও নীতিমালা এবং সামগ্রিকভাবে এ উলামাদের কর্ম ও অবদানের ওপর মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কেননা তাঁরা অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ (Insightful) দিশা ও সুস্পষ্টতা (Clarity) প্রদান করেন।

শাইখ হাদ্দাদি মানহাজের এমন এক নিখুঁত উপমা দিয়েছেন, যা এর পাশবিক (Beastly) ও হিংস্র (Predatory) প্রকৃতিকে পুরোপুরি উন্মোচন করে দেয়। এ মানহাজের অনুসারীরা সবসময় শিকারের সন্ধানে থাকে, অন্যকে আক্রমণ করে তার ভুলত্রুটি ও দুর্বলতা খুঁজে বেড়ায় এবং কোনো ধরনের দয়া-মায়া ছাড়াই প্রতিপক্ষকে নির্মূল করে তার সমস্ত রক্ত শুষে নিতে চায়। সুতরাং, স্বভাবগত দিক থেকেই এটি একটি ওয়াহশি (নিষ্ঠুর, বর্বর) মানহাজ; কারণ এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সালাফি মানহাজের মূল লক্ষ্য ও আদর্শের পুরোপুরি বিপরীত।

এছাড়া, শিকারি জন্তুরা ক্ষিপ্রতা, বিশেষ কৌশল এবং তাদের সহজাত শিকারী আচরণ, যেমন: লুকিয়ে অনুসরণ করা (Stalking), ছদ্মবেশ ধারণ করা (Camouflaging), আত্মগোপন করা (Concealing), অতর্কিত আক্রমণ করা (Ambushment) এবং দলবেঁধে শিকার করা ইত্যাদি নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। এমনকি তারা আঞ্চলিকতার ধারণার ভিত্তিতেও নিজেদের অতৎপরতা চালায়।


সূত্র: abuiyaad.com

পূর্ববর্তী
কোনো মন্তব্য নেই
মন্তব্য লিখুন
comment url